চলতি বছরের প্রথম সাতদিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৯০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ৬১ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩ হাজার ২৪৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, জানুয়ারির প্রথম সাতদিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৯০ কোটি ৭০ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৫৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। তবে ৭ জানুয়ারি একদিনে প্রবাসীরা দেশে ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এছাড়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৭১৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৯ দশমিক ৯০ শতাংশ।
এর আগে গত ডিসেম্বরে দেশে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা চলতি অর্থবছরের যেকোনো মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ও দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।
এদিকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গতকাল ১৫টি ব্যাংক থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে আরো ২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এ লেনদেনের মাধ্যমে চলতি জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬১ কোটি ৭০ লাখ ডলারে। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে গতকাল পর্যন্ত মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭৫ কোটি ২৫ লাখ ডলারে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গতকাল নভেম্বর ও ডিসেম্বরের আকুর বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। এতে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ২৪৩ কোটি ডলারে।
তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারে। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৩ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার।